বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০০৮

বাংলা ভাষা, ব্যবহার, বাংলা কম্পিউটিং এবং বঙ্গানুবাদ প্রসঙ্গে

মোহাম্মদ কামরুল হাসান (নয়ন)
email- সুন্দর@লাইভ.কম (shundor@live.com)
প্রথম প্রকাশ – http://techbangla.net

(এই প্রবন্ধটি টেকবাংলা.নেট এ প্রথম লিখিত এবং প্রকাশিত। যেকেউই চাইলে এটা তার সাইটে, পত্রিকায়, বন্ধুদের কাছে পাঠাতে পারেন, প্রকাশ করতে পারবেন। এজন্য কোনরুপ অনুমতি লাগবেনা, তবে শর্ত হলো কোনরুপ পরিবর্তন করতে পারবেন না। যেকোন ধরনের পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ! তবে বিশেষ করে কোন সাইটে, বা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করলে তা অনুগ্রহ করে লেখককে তা পরে অবহিত করবেন। যেকোন মতামত, প্রশ্ন, কোথাও কোন ভুল-ত্রুটি থাকলে তা লেখককে ই-মেইল করে জানান। ধন্যবাদ।)

“যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ
সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন ।
যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি ।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়
নিজ দেশ ত্যাগী কেন বিদেশে না যায় ।”

- আব্দুল হাকিম

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। একদিন এই ভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম আমরা। যারা অকাতরে এই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করা আমাদের অতীব প্রয়োজন। কিন্তু কিভাবে? আমাদেরো কি একিভাবে প্রাণ দিতে হবে? না। আজকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আজ প্রাণ দিয়ে প্রমান না করেও কিন্তু আমরা অন্যভাবে আমাদের প্রিয় ভাষার প্রতি যথার্থ মর্যাদা এবং সম্মান দেখাতে পারি।

দৈনন্দিন জীবনে, কর্মক্ষেত্রে, লেখাপড়ায়, খবরের কাগজে, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদিতে সঠিক এবং শুদ্ধ বাংলার প্রয়োগ চাই। আজকাল আমাদের মাঝে, বিশেষ করে তরুন সমাজে ভয়ানকভাবে প্রতিবেশী এক ভাষার যথেস্ট অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং এখন থেকেই যদি এটা প্রতিহত করা সম্ভব না হয়, তবে অচিরেই অনেকাংশে ওই বিদেশি ভাষা আমাদের বাংলা ভাষাকে স্থানান্তর করে ফেলবে। আমি ইংরেজির মত আন্তর্জাতিক ভাষার কথা বলছিনা কিন্তু। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা হলেও একিভাবে আমি তার অনুপ্রবেশের সোচ্চার প্রতিবাদ জানাতাম। তাই বলে আমি ইংরেজি ভাষা শেখার বিরুদ্ধে বলছিনা। আধুনিক বিশ্বে কেবলমাত্র একটা ভাষা জেনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। তাই অবশ্যই আমাদের ইংরেজি শেখার প্রতি জোর দিতে হবে, কিন্তু তার জন্য মাতৃভাষাকে পিছু ফেলে নয়, মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে নয়। আজকে যেটা হচ্ছে, বাংলা বাদ দিয়ে অনেককেই দেখা যাচ্ছে অযথাই প্রতিবেশী ঐ ভাষার প্রয়োগ করছেন যা কেবল আত্মসম্মান সম্পন্ন এবং বিবেকবান ব্যাক্তিদের বিরক্তির উদ্রেক করে। আরো আফসোসের কথা হলো, আমাদের নিজস্ব রেডিও, টিভি মাধ্যমগুলোতেও এটি অনুপ্রবিস্ট হয়েছে। এটা বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমাদের জন্য ভীষন দুঃখজনক। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি কিছুদিন আগে বাংলাদেশ বেড়াতে এলে এক বিরল(!) অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। চট্রগ্রামের ফয়েজ লেকের মত জাতীয় একটি ভ্রমন আকর্ষণ কেন্দ্রে মাইক দিয়ে, উচ্চস্বরে লাউড স্পীকারে সেই ভাষায় কুরুচিপুর্ণ গান বাজানো হচ্ছিলো। আর বিপনীবিতানগুলোতেও একি অবস্থা। যেকোন ক্যাসেট, সিডির দোকানে গেলেই হবে। বাংলা গানের এতই মন্দা বাজার? এরপর আবার ঢাকা-চট্রগ্রাম বাসেও একি অভিজ্ঞতা। আমার কেবলি মনে হচ্ছিলো, আমি কি আসলেই বাংলাদেশ এলাম নাকি অন্য কোন দেশে চলে এসেছি? ভাবলাম এই কি আমাদের অগ্রগতি? নিজস্ব সব জলাঞ্জলি দিয়ে অন্ধভাবে অন্যকে অনুসরণ করে চলেছি? আমাদের আর রইলো কি? বেশতো, নিজস্ব স্বকীয়তাটাই বিসর্জন দিয়ে দিয়েছি, তাই এখন থেকে আর বাঙ্গালী বলে নিজেকে পরিচয় না দিলেই হয়। বাঙ্গালীত্বের কিছু না রেখে নিজেকে বাঙ্গালী বলে চালিয়ে দেয়া অপমানজনক। এখন থেকে আর বছরে দু’একবার ভন্ডামী করা লাগবেনা, স্মৃতিসৌধে, শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আবারো বছর বছর বাঙ্গালী বাবু সাজা লাগবেনা।

ভিনদেশী যেকেউই আমাদের এ ভাষাগত এবং সাংস্কৃতিক দুরবস্থা দেখে আমাদের করুনা করবেন বৈকি।
এবারে আসা যাক প্রযুক্তি প্রসঙ্গে। ধীরে ধীরে আমরাও এগুচ্ছি, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আমাদের প্রবেশ ঘটছে যা অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে অদুর ভবিষ্যতে। বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ ভাষা হওয়া সত্বেও আজো বিভিন্ন সফটওয়্যার এর বাংলায় অনুদিত সংস্করন পাওয়া দুস্কর। আশার কথা হলো এই যে আজকাল অনেকে এগিয়ে আসছেন। বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যারগুলোর যথাসম্ভব বাংলায় অনুবাদ করার চেস্টা করছেন। এছাড়াও বাংলায় লিখার জন্য তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ফোনেটিক কি-বোর্ড। এমনকি প্রায় সম্পুর্ণ বাংলায় আজ লিনাক্স সিস্টেমও পাওয়া যায়। অনলাইনেও দেখবেন বাংলায় নতুন নতুন অনেক ওয়েব সাইট তৈরি হচ্ছে। এসব উদ্দ্যোগকে এবং জড়িত সবাইকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগতম জানাই এবং অন্যদের কাছে অনুরোধ করি যে যেভাবে পারেন, সবাইকে সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাবার জন্য। প্রযুক্তিতে আমাদের যত বিস্তার ঘটবে, ততই অগ্রগতি তরান্বিত হবে। সবার এসব সম্মিলিত প্রচেস্টা আমাদের মনে আশার সঞ্চার করে।

আমি নিজেও ব্যাক্তিগতভাবে অপেরা ব্রাউজার এবং ইনভিশন পাওয়ার বোর্ড সফটওয়্যার বাংলায় রুপান্তর করার কাজ শুরু করেছি। কিন্তু কিছুদুর এগিয়ে এক সমস্যার সম্মুখীন হলাম। আমি নিশ্চিত আমি এখানে একা নই। অন্য যারা বাংলায় রুপান্তর করেছেন পূর্বে, তারাও একি বিপাকে পড়েছিলেন। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশের জন্য, যোগাযোগের জন্য, লেখালেখির জন্য যথেস্ট শব্দ সমাহার রয়েছে। কিন্তু আপনি আধুনিক প্রযুক্তিগত শব্দের যথার্থ বাংলা খুঁজে পাবেন না। প্রায় সব এপ্লিকেশনে আপনি “টুলস” মেনু খুঁজে পাবেন। আমি উদাহরণস্বরুপ Tools এর প্রতিশব্দ উল্লেখ করছি এখানেঃ

(Bangla Academy English-Bengali Dictionary, 29th Reprint, July 2005, ISBN – 984-07-4497-6), পৃষ্ঠা – ৮৩৫ থেকে- Tool – হাতিয়ার, যন্ত্রপাতি, অসদুদ্দেশ্যে ব্যাবহৃত ব্যাক্তি ; হাতিয়ার, হাতিয়ার দিয়ে কোনো কিছু (যেমন বইয়ের প্রচ্ছদ) অলঙ্কৃত করা।(বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পঞ্চম পুনর্মুদ্রন, ভাদ্র ১৪১০, আইএসবিএন-984-07-4402-X), পৃষ্ঠা – ১২০২ থেকে-হাতিয়ার – হাতে বহন করা যায় এমন অস্ত্রশস্ত্র, শিল্পসাধন যন্ত্র, হস্ত দ্বারা ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় অস্ত্রাদি।

এখানে প্রশ্ন হলো, আমি যদি বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে শব্দচয়নে যদি এ ধরনের আক্ষরিক বা আভিধানিক অর্থ দিয়ে ভাষান্তর করি, তাহলে এর ফলাফল কি হতে পারে? কোন শব্দটা শ্রুতিমধুর হবে? কোন ক্ষেত্রে অভিধান ব্যবহার করা প্রয়োজন? কোন ক্ষেত্রে সরাসরি কোন ইংরেজী শব্দের বাংলা না খুঁজে সেটাকে অটুট রেখে বরং বাংলা অক্ষরে লিখলে ভালো হতে পারে? অর্থাত, এই “Tools” কে “যন্ত্রপাতি” হিসেবে না লিখে “টূলস” লিখে রাখলে কেমন হবে?এ ধরনের আরো অনেক হাজারো ইংরেজি, বিশেষ করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, আছে যেগুলোর বাংলা পাওয়া মুস্কিল। এরকম অহরহ শব্দ না থাকাটা আপনার, আমার কারো দোষ নয়। দোষ নয় বাংলা ভাষারো। কারন অনেক শব্দই হটাৎ করেই উদ্ভাবিত হয়। যেমন – গুগুল হলো একটা নাউন, অথচ আমরা এটাকে আজকাল ভার্ব হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছি। “Podcasting”, এটাও কোন যথার্থ ইংরেজী শব্দ নয়, অথচ আজকাল ইংরেজীর সাথে জুড়ে গেছে। এই শব্দের বাংলা পাবো কোথায়? তাহলে উপায়? উপায় একটাই। এটাকে “পডক্যাস্টিং” হিসেবেই লিখতে হবে। এটা ছাড়াও আরেকটা সমস্যা আছে এরুপ আক্ষরিক অনুবাদের। যেমন ধরুন নিন্মের কাল্পনিক চিত্রটি-

- হ্যাঁ, তুমি টুলস এ টিপ দাও, দিয়ে ইন্টারনেট অপশন মেনু দেখো
- টুলস? আমিতো টুলস দেখিনা। এখানে আছে ফাইল, সম্পাদনা, দেখা, পছন্দনীয়, যন্ত্রপাতি, সাহায্য
- আচ্ছা, যন্ত্রপাতিতে টিপ দাও দেখি, তারপর অপশন দেখো
- দিলাম টিপ, কিন্তু অপশন তো নেই এখানে? আন্তর্জাল ইচ্ছাসমুহ তে?
- হ্যাঁ!

দেখতে পাচ্ছেন কি সমস্যা হতে পারে। এর কারন হলো সার্বজনীনভাবে গৃহীত এসব ইংরেজী শব্দের বাংলা নেই। তাই এক অনুবাদকের করা বাংলা আরেক অনুবাদকের কাছে পছন্দ নাও হতে পারে। যেমন আমি অপেরা ব্রাউজারে Tools কে টুলস হিসেবে লিখলাম, আপনি ফায়ারফক্সে টুলস কে যন্ত্রপাতি হিসেবে লিখে থাকেন, তাহলে মাঝখান থেকে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে আমাদের অনুবাদের ব্যবহারকারীরা। একেকজন অনুবাদক একেক শব্দ বাছাই করে অনুবাদ করতেই পারেন। কিন্তু সমস্যাটা হলো আমরা উভয়েই একি ইংরেজী শব্দের ভিন্নরকম বাংলা করছি। এটা এড়ানোর জন্য উপায় একটাই এবং সেটা হলো যেসব ইংরেজীর ভালো এবং সহজ বাংলা নেই, তাকে অনুবাদ এড়িয়ে যাওয়া। ব্যবহারকারীরা যদি দেখেন এক এপ্লিকেশনে কেউ টুলস’এর বদলে লিখেছে যন্ত্রপাতি এবং আরেক এপ্লিকেশনে টুলসের বদলে লিখা হয়েছে হাতিয়ার।

আমি মনে করি এতে হিতে বিপরীত হবে। তখন বাংলায় তাদের আগ্রহী করাতো দুরে থাক, ভাষা নিয়ে এসব সংশয়, জটিলতা এবং দ্বিধার কারনে তারা হয়তো বাংলায় অনুদিত সফটওয়্যার ব্যবহারই করবেন না একদম। তাহলে অনুবাদকদের কি করা উচিত? এক কথায় আমি বলবো ভালো এবং বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারবে, এমন প্রতিশব্দ না থাকলে সেটাকে ইংরেজিতেই রেখে দিন, তবে বাংলা অক্ষরে লিখে দিন ইংরেজি শব্দটা।

এবারে অনেকে আমাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবেন হয়ত। বলবেন শুরুতে কি সব বড় বড় কথা ভাষা নিয়ে, অথচ শেষে এসে বলছে বাংলার বদলে ইংরেজী লিখতে? আমি উত্তরে বলবো, আপনার মনে যদি ঠিক এই প্রশ্ন জাগরিত হয়, তবে আপনি সম্পুর্ণরুপে এই প্রবন্ধের সারমর্ম অনুধাবন করতে ব্যার্থ হয়েছেন। কথ্য ভাষায় কথা বলা অপরাধ নয়। আমি এও বলছিনা সবাইকে এখন থেকে শুদ্ধ ভাষায়, সাহিত্যিক ভাষায় কথা বলা শুরু করতে হবে এবং এতেই ভাষার প্রতি মর্যাদা দেখানো হবে। অনুরোধ শুধু নিজ ভাষার প্রতি অনীহা করবেন না। তা সে দৈনন্দিন জীবনে হোক, বা কম্পিউটারে হোক।যুগের পরিবর্তনের সাথে আমাদের খাপ খাওয়াতে হবে, তবে তা স্বকীয়তার মূল্যে নয়, ভাষাকে, নিজের সংস্কৃতিকে অবমাননা করে নয়। নিজেকে হেয় করে কেউ বড় হতে পারেনা। আসুন বাংলায় লিখি, কথা বলি, বাংলা ছড়িয়ে দেই সর্বত্র এবং অপভাষাকে প্রতিহত করি। কাল নয়, পরশু নয়, সময় আজ, এক্ষুনি।

লিনাক্স বুট অর্ডার পরিবর্তন

অনেকে আজকাল লিনাক্স নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন। এটা খুবি ভালো কথা। তবে এখনো উইন্ডোজ পুরোপুরি ছেড়ে দেবার মত অবস্থা তৈরি হয়নি। তাই আমদের বেশিরভাগ ই লিনাক্সের পাশাপাশি উইন্ডোজ টাও ইন্সটল করে রাখি যদি কখনো কাজে লাগে। যাই হোক, এভাবে করে থাকলে “গ্রাব” এর কথা নিশ্চয় জানেন? গ্রাব হলো লিনাক্সের একটা বুটলোডার। এটা ছাড়াও আছে “লিলো”। তবে আমি শুধু আজ গ্রাব নিয়ে আলোচনা করছি। গ্রাব এ বাই ডিফল্ট আপনার লিনাক্স ইন্সটলেশনটি বাছাই করা থাকবে। মানে যখন কম্পিউটার চালু করবেন, লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন টা বাছাই করা থাকবে। আপনি যদি উইন্ডোজ এ বুট করতে চান, তবে অতি দ্রুত আপনাকে এরো কিগুলো চেপে উইন্ডোজ অপশন বাছাই করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি উইন্ডোজ ব্যবহার করতে চান নিয়মিত, ব্যপারটা দুদিন পরে বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে কিভাবে উইন্ডোজ কে ডিফল্ট করা যায়। মানে আপনাকে আর বাছাই করতে দিতে হবেনা। শুধু যখন লিনাক্স চালাতে চাইবেন, তখনি একিভাবে এরো চেপে লিনাক্স বাছাই করতে হবে।

আসুন দেখিয়ে দেইঃ

০) স্বাভাবিকভাবে আপনার কম্পিউটার চালু করুন, এবং মনে রাখুন উইন্ডোজ টা কত নাম্বার অপশনে ছিল। একটা তালিকা পাবেন, সেই তালিকায় উইন্ডোজ কি ২ নাম্বার অপশনে? নাকি ৩ নাম্বারে? নাকি ৪ নাম্বারে? এটা অত্যন্ত ভালোভাবে লক্ষ্য করবেন। মনে হচ্ছে অতি সাধারন একটা কাজ, কিন্তু এটাই সবচে গুরুত্বপূর্ন!

১) রুট (root) হয়ে লিনাক্সে লগিন করুন।

২) এরপর সিস্টেমের root/boot/grub/menu.lst ফাইল টি লক্ষ্য করুন। এটাকে অন্য জায়গায় কপি করুন। এটা সাবধানতা অবলম্বন। সরাসরি বুট ফাইল্টা উলটা পালটা করলে আপনার সিস্টেম আনবুটেবল হয়ে যেতে পারে। তাই অন্যখানে কপি করে সেটা নিয়ে কাজ করা স্রেয়।

৩) যেকোন টেক্সট এডিটর দিয়ে এটা খুলে দেখলে নিন্মের মত দেখতে পাবেন। এখানে আমি উদাহরনস্বরুপ অপেনসুজে লিনাক্সের ফাইলটি দেখাচ্ছি। বলাবাহুল্য এটা পরিবর্তনের আগের রুপ। এটা এডিট করার পর কেমন হয়, তাও দেখাবো। একটা কথা না বললেই নয়। আপনার সিস্টেমের ফাইলটিও যে একদম হুবহু একি হবে, তা কিন্তু নয়, কিন্তু বেশি একটা তফাত দেখবেন না। এবং আপনার সিস্টেম ভেদে কাউন্টার টাও ভিন্ন হবে।এডিট করার পূর্বেঃ


Code:# Modified by YaST2. Last modification on Tue Jul 15 20:22:18 EDT 2008
default 0
timeout 8
gfxmenu (hd0,5)/boot/message
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: linux###
title openSUSE 11.0 - 2.6.25.9-0.2 (pae)
root (hd0,5)
kernel /boot/vmlinuz-2.6.25.9-0.2-pae root=/dev/disk/by-id/scsi-SATA_ST3160815AS_9RX8P7GQ-part6 resume=/dev/sda5 splash=silent showopts vga=0x317
initrd /boot/initrd-2.6.25.9-0.2-pae
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: failsafe###
title Failsafe -- openSUSE 11.0 - 2.6.25.9-0.2
root (hd0,5)
kernel /boot/vmlinuz-2.6.25.9-0.2-pae root=/dev/disk/by-id/scsi-SATA_ST3160815AS_9RX8P7GQ-part6 showopts ide=nodma apm=off acpi=off noresume nosmp noapic maxcpus=0 edd=off x11failsafe vga=0x317
initrd /boot/initrd-2.6.25.9-0.2-pae
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: xen###
title Xen -- openSUSE 11.0 - 2.6.25.9-0.2
root (hd0,5)
kernel /boot/xen.gz
module /boot/vmlinuz-2.6.25.9-0.2-xen root=/dev/disk/by-id/scsi-SATA_ST3160815AS_9RX8P7GQ-part6 resume=/dev/sda5 splash=silent showopts vga=0x317
module /boot/initrd-2.6.25.9-0.2-xen
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: windows 1###
title windows 1
rootnoverify (hd0,5)
chainloader (hd0,0)+1
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: windows 2###
title windows 2
rootnoverify (hd0,5)
chainloader (hd2,0)+1
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: windows 3###
title windows 3
rootnoverify (hd0,5)
chainloader (hd1,0)+1
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: windows 4###
title windows 4
rootnoverify (hd0,5)
chainloader (hd3,0)+1


ফাইলের শুরতে দেখতে পাচ্ছেন default, timeout ইত্যাদি অপশন। এখানে কোন = চিহ্ন নেই। কিছু ডিস্ট্রিবিউশনে যেমন রেডহ্যট, সেন্টওএস এ = দেখা যাবে। যাই হোক, আমরা টাইমার, মানে timeout কে ৮ এর বদলে ১০ সেকেন্ড এ পরিবর্তন করবো। সেই সাথে ডিফল্ট টাও বাছাই করে দেব। এখানে গ্রাব কে জানিয়ে দেব কোনটা লোড করতে হবে সয়ংক্রিয়ভাবে। এখানে বেশ সাবধান থাকবেন। এই পর্যায়ে ভুল হলে হতে পারে আপনার সিস্টেম আর বুট হবেনা! অতএব সাবধান! ঠিকমতো গুনতে পারলে চিন্তার কারন নেই!এবার দেখুন ফাইলের প্রথমে কয়েকটি লিনাক্স পার্টিশন নিয়ে তথ্য আছে। আমরা সেগুলো কিছু করবোনা। আমাদের কাজ হবে শুধু উইন্ডোজ নিয়ে। আমার ফাইলে দেখুন ৪ টি উইন্ডোজ দেখা যাচ্ছে। আসলে কিন্তু আমার ৪ টা উইন্ডোজ ইন্সটলেশন নেই। আমার কম্পিউটারে বেশ কয়েকটা আলাদা হার্ড-ড্রাইভ থাকার কারনে গ্রাব হয়তো ধরে নিয়েছে সবগুলোতে উইন্ডোজ ইন্সটল করা। এবার মনে করে দেখুন একদম সর্বপ্রথম পদক্ষেপের কথা। মনে আছেতো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের তালিকায় কত নাম্বারে ছিল? আমার ক্ষেত্রে ছিল ৪ (চতুর্থ) এ। মানে আমি উইন্ডোজ়ে বুট করতে চাইলে আমাকে এরো চেপে এই চার নাম্বার অপশনে এসে এন্টার চাপতে হতো। আরো একটি কথা। সেই তালিকায় শুধু দেখা যেত “windows 1″ হিসেবে। আমি এটাকেও পাল্টাতে চাই।

৪) আসুন এটা পালটে ফেলি। উইন্ডোজের নাম টা ঠিক করি তালিকায়। আপনি ফাইল্টির চতুর্থ ব্লকে দেখুন,


Code:###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: windows 1###
title windows 1
rootnoverify (hd0,5)
chainloader (hd0,0)+1


title এ লক্ষ্য করুন, লেখা আছে windows 1, আমরা শুধু এই অংশটা পাল্টাবো। আমি লিখবো Windows XP Professional-SP3. তাহলে এডিট করার পরে পুরো লাইনটা দেখবে হবে ঠিক এরকম, title Windows XP Professional-SP3

৫) এবার আসুন মূল উদ্দেশ্যে। আমার যেহেতু উইন্ডোজ টা ৪ নাম্বার অপশনে, আমাকে এখন এটা থেকে ১ কমাতে হবে, মানে ৪ -১ = ৩। হ্যাঁ, এই তিন টাই হবে আমাদের সংখ্যা। আমাদের কে ১ বিয়োগ করতে হয়েছে কারুন গ্রাব এ কাউন্টার শুরু হয় ০ থেকে, ১ থেকে নয়। তাই আপনার উইন্ডোজ় যততে থাকে, তার চেয়ে ১ কম। এবারে গ্রাব ফাইলের উপরে নজর দিন। দেখবেনঃ


Code:# Modified by YaST2. Last modification on Tue Jul 15 20:22:18 EDT 2008
default 0
timeout 8
gfxmenu (hd0,5)/boot/message


এখানে চাইলে timeout এ ৮ এর বদলে ১০ লিখে দিন। উপরের লাইনে, default 0 তে দেখুন, সেখানে 0 পালটে 3 লিখে দিন। বুঝতে পেরেছেন ৩ কেন? না বুঝলে আবার উপরাংশ পড়ে দেখুন।এরপর ফাইল টা সেভ করুন। আমি আরো একটা বাড়তি কাজ করেছি। সেটা হলো আমি বাড়তি উইন্ডোজ অপশনগুলো ছাটাই করে দিয়েছি। কারন আমি জানি ওগুলোতে কোন উইন্ডোজ নেই। গ্রাব ভুলভাবে ওগুলোতে উইন্ডোজ দেখাচ্ছে। তালিকাটা আরেকটু সংক্ষিপ্ত করার জন্যেই কেবল। এটা সম্পুর্ণ ঐচ্ছিক ব্যাপার।যাই হোক, সব কিছু ঠিকমতো করতে পারলে আপনার ফাইল্টি দেখতে হবে এরকমঃ


Code:# Modified by YaST2. Last modification on Sun Sep 21 09:07:48 EDT 2008
default 3
timeout 10
gfxmenu (hd0,5)/boot/message
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: linux###
title openSUSE 11.0 - 2.6.25.9-0.2 (pae)
root (hd0,5)
kernel /boot/vmlinuz-2.6.25.9-0.2-pae root=/dev/disk/by-id/scsi-SATA_ST3160815AS_9RX8P7GQ-part6 resume=/dev/sda5 splash=silent showopts vga=0x317
initrd /boot/initrd-2.6.25.9-0.2-pae
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: failsafe###
title Failsafe -- openSUSE 11.0 - 2.6.25.9-0.2
root (hd0,5)
kernel /boot/vmlinuz-2.6.25.9-0.2-pae root=/dev/disk/by-id/scsi-SATA_ST3160815AS_9RX8P7GQ-part6 showopts ide=nodma apm=off acpi=off noresume nosmp noapic maxcpus=0 edd=off x11failsafe vga=0x317
initrd /boot/initrd-2.6.25.9-0.2-pae
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: xen###
title Xen -- openSUSE 11.0 - 2.6.25.9-0.2
root (hd0,5)
kernel /boot/xen.gz
module /boot/vmlinuz-2.6.25.9-0.2-xen root=/dev/disk/by-id/scsi-SATA_ST3160815AS_9RX8P7GQ-part6 resume=/dev/sda5 splash=silent showopts vga=0x317
module /boot/initrd-2.6.25.9-0.2-xen
###Don't change this comment - YaST2 identifier: Original name: windows 1###
title Windows XP Professional-SP3
rootnoverify (hd0,5)
chainloader (hd0,0)+1


আবার ভালোভাবে দেখুন পরিবর্তিত ফাইলটি। দেখুন অন্য কোন কিছু পাল্টিয়েছেন কিনা। কোন বাড়তি কিছু ঢুকে গেছে কিনা। আপনি চাইলে দুটো ফাইল (পরিবর্তিত এবং অরিজিনাল গ্রাব) তুলনা করে দেখতে পারেন। যখন তা সম্পন্ন হয়ে যাবে, এবার আপনাকে নতুন এই ফাইলটি ঠিক একি জায়গায় এনে রাখতে হবে। মানে ফাইলটি ওভাররাইট করতে হবে। ড্র্যগ করে, বা কপি করে যেভাবে ইচ্ছে ফাইলটি root/boot/grub/ এ পেস্ট করুন। ওভাররাইট কনফার্ম করুন।সবকিছু ভালোভাবে করতে পারলে পরবর্তী বুট এ আপনি দেখবেনঃ- বাড়তি সব উইন্ডোজ চলে গেছে, শুধু যেটা বুটেবল সেটা আছে। (এটা ছিল ঐচ্ছিক, আমি করেছি। আপনিও চাইলে করতে পারেন)- টাইমার এখন ১০ সেকেন্ড হয়েছে- উইন্ডোজ পার্টিশন এখন ডিফল্ট হয়ে গেছে।

ধন্যবাদ।

আমি কে?

দেখলাম নিজের পরিচিতিটাও দেয়া হয়নি ভালো করে। আমি নয়ন। আচ্ছা হূট করে মাথায় যা আসে বলছি। স্পেসিফিক কিছু জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করে নেবেন।পড়াশোনা চলছে নিউইয়ররকে। আগামীতে মাস্টার্স করার ইচ্ছে আছে। বাংলাদেশ থেকে এখানে পাড়ি জমিয়েছিলাম সেই ১৯৯৯ তে এসএসসি পরীক্ষা দেবার পর। বাংলা গান এবং বাংলা বই এর উপর আসক্তি আছে প্রচুর। নতুন,পুরনো, ব্যন্ড, রবীন্দ্র, নজরুল সব মিলিয়ে বাংলা গান জমিয়েছি প্রায় ৪০,০০০ এর মতো। একেক সময় একেক ধরনের গান শুনি। যা ভালো লাগে। তবে সাধারণত গানের কথার প্রতি আমি বিশেষভাবে নজর দেই। আমার কাছে “হাবিব” এর গান অসহ্য লাগে। বিরক্ত লাগে এই শ্রেণীর তথাকথিত শিল্পীদের। যাই হোক, এ নিয়ে আরেকদিন।
ম্যথমেটিক্স নিয়ে শুরু করে শেষমেষ পরিসংখ্যানে ব্যচেলরস করছি। প্রায় শেষ। তবে পড়াশোনার পাঠ চুকানোর আগে ভাগ্যবশত চাকুরী মিলেছে। অবসর সময়ে প্রযুক্তি নিয়ে প্রচুর ঘাঁটাঘাঁটি করি। এর ফলাফল http://techbangla.net যা কেবল বাংলায় প্রযুক্তি বিষয়ে আলোকপাত করে থাকে। আশাকরছি প্রযুক্তিতে উতসাহীদের কাছে ভালোভাবে টেকবাংলা স্থান পাবে।